Monday, 26 November 2012

ঘাঁটির লড়াই ---(পার্ট--১)

     আজ 2012 এর শেষ লগ্নে দাঁড়িয়ে গোটা পৃথিবী; আসছে নতুন বছর 2013; অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি ভারত। এক অপার সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলা বিশ্বের সর্ববৃহৎ গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রটি আরো একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রের তালিকায় নাম লেখাবে, এই কি আমাদের শেষ পরিনিতি...? 200 বছর সুলতানি, 300 বছর মুঘল, 200 বছর ইংরেজদের কাছে গোলামি থাকাকালীন অজস্র প্রাণের বিনিময়ে প্রাপ্ত স্বাধীনতা... সেটাও কি বিফলে যাবে? যেটা যেকোন ভারতীয়র কাছেই কঠিন চিন্তার বিষয়। আসলে আবেগ দিয়ে স্মৃতি চারণ করা যায়, কিন্তু স্মৃতিকে রক্ষা করা তো যায় না। কারণ ভারতীয়দের আবেগ বড্ড বেশি!

    আমাদের বিগত ২০১০ সাল থেকে একের পর এক সমস্যা, ঘাটতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও অগণিত অনিয়ম; যার ফলে উন্নয়নের নিম্নমুখি ভারত। দেশের আনাচে কানাচে অনেক অনিয়ম-বিশৃঙ্খলা। এরকম অনেক ইস্যুতেই আজ আমাদের নজর দেওয়া প্রয়োজন। ভারতের অর্থনীতি থেকে সামরিক কাঠামো সবই নিম্নমুখি, কিন্তু প্রতিবেশী রাষ্ট্র চিন, যে প্রতিনিয়ত ভারত তথা গোটা বিশ্বকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ছে। ফলে শুরু হয়েছে ঘাঁটির লড়াই। যাকে এশিয়ার ঠাণ্ডা লড়াই বলা যেতে পারে।

      রাষ্ট্র একটা বৃহৎ সংসারের মত। এখানে নিত্য দিনের চাহিদার পাশাপাশি আপনাকে আপনার ঘরও মজবুত করতে হবে। আর এই বিশ্বে তা করতে হলে এখন ট্যাঙ্ক, বারুদ, পারমাণবিক প্রযুক্তি, জাহাজ, বিমানের সাথে সাথে পজিশেনও ঠিক করতে হবে। আর এখানে বলা ভালো কিছু জিনিস, যেমন সামরিক বাহিনী, বিদেশনীতি, সামরিক বাহিনীর পরিক্ষাঠামো বা সরঞ্জাম, আমদানি, রপতানি  ইত্যাদি বিষয়ে  প্রতিবেশি রাষ্ট্রগুলোর নীতি ও সম্পর্ক এর উপর নির্ভরশীল।

    ইউরোপ-আমেরিকা-সাবেক সোভিয়েত থেকে ধীরে ধীরে সরে এসে এশিয়া কিভাবে এই আন্তর্জাতিক ঘাঁটির লড়াই-এর ময়দান হয়ে উঠছে সে বিষয়ে কয়েকটি কথা তুলে ধরবো।

যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে --- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

যদি তোর       ডাক শুনে কেউ না আসে       তবে       একলা চলো রে।
একলা চলো,       একলা চলো,       একলা চলো,       একলা চলো রে॥
যদি       কেউ কথা না কয়,       ওরে ওরে ও অভাগা,
যদি       সবাই থাকে মুখ ফিরায়ে       সবাই করে ভয়—
                   তবে        পরান খুলে
ও তুই       মুখ ফুটে তোর মনের কথা        একলা বলো রে॥
যদি        সবাই ফিরে যায়      , ওরে ওরে ও অভাগা,
যদি        গহন পথে যাবার কালে কেউ ফিরে না চায়—
                   তবে        পথের কাঁটা
ও তুই       রক্তমাখা চরণতলে        একলা দলো রে॥
যদি        আলো না ধরে,       ওরে ওরে ও অভাগা,
যদি        ঝড়-বাদলে আঁধার রাতে        দুয়ার দেয় ঘরে—
                   তবে        বজ্রানলে
আপন        বুকের পাঁজর জ্বালিয়ে নিয়ে        একলা জ্বলো রে॥

আমার কলমে

    নমস্কার, আমি অঙ্কুর পাণ্ডে। মুর্শিদাবাদের কান্দি ব্লকের এক প্রত্যন্ত গ্রামে আমার বাস।

  বোধোদয় নামের (মূলত বাংলা ভাষায়) এই ব্লগটি আমার মতপ্রকাশের একটি মাধ্যম। এখানে বর্তমানে ঘটে চলা দেশীয়, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ঘটনার বিশ্লেষণ, ইতিহাসের ঐতিহ্যবাহী বিষয়, সমাজিক বিভিন্ন ইস্যু তুলে ধরি। বিশেষ করে আমাদের কান্দি মহকুমা তথা মুর্শিদাবাদ জেলা তথা বঙ্গদেশের মোড় ঘোরানো ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব, ঐতিহাসিক দলিলকে ভিত্তি করে তথ্যসমৃদ্ধ লেখা পাঠকের কাছে সহজভাবে পৌঁছে দেওয়া এই ব্লগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

  এই ব্লগে প্রকাশিত প্রতিটি লেখা যথাসম্ভব নির্ভরযোগ্য তথ্য ও ঐতিহাসিক সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত করার চেষ্টা করি। কোথাও কোনো তথ্যগত ত্রুটি চোখে পড়লে অবশ্যই জানাবেন; তা সংশোধনের আন্তরিক চেষ্টা থাকবে।

   জীবনটাকে উপভোগ করতে চাই। সীমিত সময়ের জন্যই এই পৃথিবীতে আছি। প্রতিটি মুহূর্তই মূল্যবান। তাই সাফল্যে যেমন আনন্দ পাই, তেমনি ব্যর্থতা থেকেও শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করি। এই বাইরে আমার সম্পর্কে বলার মতো তেমন কিছুই নেই। কাজের চেয়ে ভুলই হয়তো বেশি করি। তবে নিজের ভুল বুঝতে পারলে তা স্বীকার করতে দ্বিধা করি না। নিজের দুর্বলতা আড়াল করার চেয়ে নিজেকে যেমন, তেমনভাবেই মেলে ধরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি। ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তবে ভণ্ডামি (বলা ভালো, হিপোক্রেসি) একেবারেই সহ্য হয় না।

  আপনার মূল্যবান সময় দিয়ে বোধোদয়-এ আসার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।